Projects

3D প্রিন্টেড মুন ল্যাম্প ও কাস্টম ডেস্ক ল্যাম্প: ঢাকায় নিজের ডিজাইনের আলো

3D printed moon lamp থেকে মজার ডেস্ক ল্যাম্প: ঢাকার ওয়ার্কশপে কীভাবে রিলিফ প্রিন্ট, হাতে রং আর LED মিলে আলো তৈরি হয়, জানুন। আপনার আইডিয়া পাঠিয়ে কোটেশন নিন।

3D প্রিন্টেড মুন ল্যাম্প ও কাস্টম ডেস্ক ল্যাম্প: ঢাকায় নিজের ডিজাইনের আলো

বাজারের বেশিরভাগ ল্যাম্পে একই বাল্ব, একই শেড আর একই সাদা আলো; জ্বলে ঠিকই, কিন্তু কোনো গল্প বলে না। বাংলাদেশে যাঁরা 3D প্রিন্টেড মুন ল্যাম্প বা নিজের পছন্দের আকারের কাস্টম ল্যাম্প খুঁজছেন, তাঁদের জন্য এই লেখার প্রশ্নটা সহজ: আলোটা যদি আপনার গল্প বলত? নিচে আমাদের ওয়ার্কশপের দুটি আসল ল্যাম্প প্রজেক্ট ধরে দেখাচ্ছি, একটা আইডিয়া কীভাবে প্রিন্ট, রং আর LED পেরিয়ে দেয়ালে বা টেবিলে আলো হয়ে ওঠে।

ভিডিও: এই লেখার সাথে আমাদের ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও “আলোর গল্প” দেখুন ভিডিও টিউটোরিয়াল পাতায়।

সাধারণ ল্যাম্প আর 3D প্রিন্টেড ল্যাম্পের পার্থক্য কোথায়

দোকানের ল্যাম্প বানানো হয় হাজার হাজার মানুষের কথা ভেবে, তাই আকার আর রং প্রায় সব ঘরে একই রকম লাগে। 3D প্রিন্টিংয়ে শুরুটা হয় একটা নির্দিষ্ট ডিজাইন ফাইল থেকে, ফলে একটা ল্যাম্প কেবল একজনের জন্যও বানানো যায়। আকার, টেক্সচার, রঙের জোড়া, কোথায় আলো বের হবে আর কোথায় ছায়া পড়বে, সবই ডিজাইনের অংশ।

  • আকার: চাঁদের পৃষ্ঠ, কোনো চরিত্র, জ্যামিতিক নকশা বা লেখা, যা মডেলে আঁকা যায় তা-ই প্রিন্টের বিষয় হতে পারে।
  • টেক্সচার: মসৃণ দেয়ালের বদলে খসখসে বা রিলিফ সারফেস রাখলে আলো পড়ে অন্যরকম দেখায়।
  • রং: আলাদা অংশ আলাদা রঙের ফিলামেন্টে প্রিন্ট করলে রং না করেও কম্বিনেশন পাওয়া যায়, আবার দরকারে হাতে রং করাও যায়।
  • আলোর জায়গা: পেছন থেকে আলো, ভেতর থেকে আলো, নাকি শেডের নিচে আলো, সেটা আগে ঠিক করলে ডিজাইনও সেভাবে সাজানো হয়।

আমাদের কাজ: ব্যাকলিট মুন ওয়াল ল্যাম্প ও Loopy Lamp

মুন ওয়াল ল্যাম্প: প্রিন্টে চাঁদের মাটি

আমাদের 3D প্রিন্টেড মুন ওয়াল ল্যাম্প হলো পূর্ণিমার চাঁদের আকারের একটা গোল দেয়াল-ল্যাম্প। সামনের দিকটা চাঁদের পৃষ্ঠের রিলিফ: বড় বড় অববাহিকা, গর্তের কিনারা আর অসংখ্য ছোট ছোট খাদ একটা সমতল চাকতি থেকে উঁচু হয়ে আছে। পোস্ট অনুযায়ী এটি Bambu Lab P1S ও P2S প্রিন্টারে প্রিন্ট হয়েছে, প্রিন্টিংয়ে সময় লেগেছে প্রায় ৬২.১ ঘণ্টা আর ম্যাটেরিয়াল লেগেছে প্রায় ৯৯৭ গ্রাম। কাজটা শেষ হয় জুন ২০২৬-এ।

  1. গ্রে প্রিন্ট: রিলিফটা প্রিন্টার থেকে বের হয় সাধারণ গ্রে রঙে; অংশগুলোর জোড়া তখনো সূক্ষ্ম রেখা হয়ে দেখা যায়।
  2. হাতে রং: এরপর কালো আর সাদা অ্যাক্রেলিক দিয়ে রং করা হয়। সাদা রং ড্রাই-ব্রাশ করা হয় উঁচু জায়গাগুলোতে, তাই গর্তের কিনারায় আলো ধরে আর ভেতরের খাদ অন্ধকার থাকে।
  3. পেছনে আলো: একটা LED স্ট্রিপ আর গাঢ় রিং ফ্রেম যোগ করলে চাকতিটা ল্যাম্প হয়ে যায়।

আলো জ্বললে কিনারা ঘিরে আভা ছড়ায়, আর রং করা ডিটেইল দেখতে চাঁদের ছবির মতো লাগে। একপাশ থেকে আলো পড়লে একই ল্যাম্পে কেবল একটা অর্ধচন্দ্র দেখা যায়, কিনারা বরাবর গর্তগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পোর্টফোলিওতে বলা আছে, অন্য সাইজ আর ফিনিশ প্রিন্টের আগে আলোচনা করে ঠিক করা যায়।

Loopy Lamp: টেবিলের ছোট্ট সঙ্গী

দ্বিতীয় উদাহরণটা অনেক বেশি খেলাচ্ছলে বানানো। Loopy Lamp ডেস্ক ল্যাম্প দেখতে একটা ছোট্ট গোলগাল চরিত্রের মতো, যে পা ছড়িয়ে বসে আছে আর মাথার জায়গায় আছে ল্যাম্পশেড। ল্যাম্পটা দুই অংশে প্রিন্ট করা: বডি আর কোণাকৃতির শেড। বডির ফাঁপা গলার মাথায় ছোট ট্যাব আছে, যার ওপর শেডটা বসে। অংশ আলাদা বলে রং মেশানো যায়; ছবিতে একটা পুরো লাইম-সবুজ ল্যাম্প আর একটা হলুদ বডির ওপর সাদা শেড দেখা যায়।

দুটি অংশের পুরো সারফেসে সূক্ষ্ম ম্যাট টেক্সচার রাখা হয়েছে। এতে লেয়ার লাইন ঢাকা পড়ে আর দিনের আলোয় ল্যাম্পটাকে নরম, সিরামিকের মতো দেখায়। অন্ধকারে শেড নিজের রঙে জ্বলে আর পায়ের চারপাশে টেবিলে আলোর একটা বৃত্ত ফেলে, তাই এটা সাজসজ্জার পাশাপাশি নরম নাইট লাইটের কাজও করে। কাজটি আগস্ট ২০২৬-এর, আর অনুরোধে অন্য রঙেও দেওয়া যায়।

নিজের ল্যাম্প ডিজাইনের আগে যা ভাববেন

একটা ভালো দেখতে মডেল আর একটা ভালো ল্যাম্প এক জিনিস নয়। আলো, তার আর ঝোলানোর ব্যবস্থা ভেবে নিলে পরে ঝামেলা কমে।

  • দেয়ালে নাকি টেবিলে: দেয়াল-ল্যাম্পে পেছনের দিকটা সমতল আর ঝোলানোর ব্যবস্থা লাগে; টেবিল-ল্যাম্পে ভারসাম্য আর বেসের আকার জরুরি।
  • আলোর উৎস: LED স্ট্রিপ, ছোট LED মডিউল বা বাল্ব হোল্ডার, কোনটা বসবে আর তার কোথা দিয়ে বের হবে, ডিজাইনে সেই জায়গা রাখতে হয়।
  • আলো কতটা ভেদ করবে: পাতলা দেয়াল আর হালকা রঙে আলো বেশি ছড়ায়; মোটা বা গাঢ় অংশে আলো আটকে যায়। কোন অংশ জ্বলবে আর কোনটা ছায়ায় থাকবে, সেটা আগে ঠিক করুন।
  • সাইজ: আমাদের FDM সার্ভিসে এক টুকরোয় সর্বোচ্চ ৪০০ × ৪০০ × ৪০০ mm পর্যন্ত প্রিন্ট করা যায়। এর চেয়ে বড় হলে মুন ল্যাম্পের মতো কয়েকটা অংশে ভাগ করে প্রিন্ট করে জোড়া দিতে হয়।
  • ফিনিশ: প্রিন্টের নিজস্ব রং রাখবেন, নাকি হাতে রং করা চাই, সেটা শুরুতেই বলুন। অ্যাসেম্বলি, পেইন্টিং আর LED লাইটিং অনুরোধে আলোচনা করা যায়।

রং ছাড়াই একাধিক রঙের লুক কীভাবে পাওয়া যায়, তা পড়তে পারেন রং না করে মাল্টি-কালার 3D প্রিন্ট লেখায়। আর হাতে রং বা ফিনিশিং নিয়ে বিস্তারিত আছে 3D প্রিন্ট পোস্ট-প্রসেসিং ও পেইন্টিং গাইডে।

উপহার হিসেবে কাস্টম ল্যাম্প

ল্যাম্প এমন একটা উপহার যা প্রতিদিন চোখে পড়ে। কারো প্রিয় চরিত্র, নামের অক্ষর, একটা বিশেষ জায়গার আকার বা স্মৃতির কোনো প্রতীক থেকে ল্যাম্প বানানো যায়। জন্মদিন, বিয়ে বা অফিসের ডেস্কের জন্য এমন ব্যক্তিগত জিনিস খুঁজলে আমাদের কাস্টম 3D প্রিন্টেড উপহার লেখাটাও কাজে লাগবে। মুন ল্যাম্পের মতো বড় কাজ কয়েক অংশে ভাগ করে কীভাবে প্রিন্ট হয়, তা জানতে পড়ুন বড় 3D প্রিন্ট অংশে ভাগ করার গাইড।

অর্ডারের জন্য কী পাঠাবেন

আপনার কাছে তৈরি 3D মডেল থাকুক বা শুধু একটা ধারণা, দুই পথেই শুরু করা যায়।

  1. 3D ফাইল থাকলে: STL, 3MF, STEP, STP বা OBJ ফাইল আমাদের FDM 3D প্রিন্টিং কোটেশন পাতায় আপলোড করুন।
  2. ফাইল না থাকলে: স্কেচ, রেফারেন্স ছবি বা পছন্দের কোনো ল্যাম্পের ছবি পাঠান; দরকার হলে আগে CAD-এ মডেল তৈরি করা যায়।
  3. মাপ: দেয়ালে বা টেবিলে কতটা জায়গা আছে, আনুমানিক ব্যাস বা উচ্চতা জানান।
  4. আলো ও ফিনিশ: কোন ধরনের আলো চান, প্রিন্টের রং রাখবেন নাকি হাতে রং লাগবে।
  5. সংখ্যা: একটা উপহার, নাকি একই ডিজাইনের কয়েকটা।

সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

বাংলাদেশে 3D প্রিন্টেড মুন ল্যাম্প কি অর্ডার করে বানানো যায়?

হ্যাঁ। আমাদের পোর্টফোলিওর মুন ওয়াল ল্যাম্পটি ঢাকার ওয়ার্কশপেই প্রিন্ট, রং আর অ্যাসেম্বল করা হয়েছে। অন্য সাইজ বা ফিনিশ চাইলে প্রিন্টের আগে আলোচনা করে ঠিক করা যায়।

ল্যাম্পের 3D মডেল না থাকলে কী করব?

স্কেচ, ছবি আর আনুমানিক মাপ পাঠালেই চলবে। আমাদের CAD টিম সেখান থেকে প্রিন্টযোগ্য মডেল বানাতে পারে, তারপর সেই ফাইল থেকেই প্রিন্ট হয়।

ল্যাম্প কি একাধিক রঙে প্রিন্ট করা যায়?

যায়। Loopy Lamp-এর মতো অংশ আলাদা করে প্রিন্ট করলে প্রতিটা অংশ আলাদা রঙের ফিলামেন্টে হতে পারে। আবার মুন ল্যাম্পের মতো গ্রে প্রিন্টের ওপর হাতে রং করেও ডিটেইল ফোটানো যায়।

ঢাকার বাইরে থেকে কি অর্ডার দেওয়া যায়?

হ্যাঁ। ফাইল বা ছবি অনলাইনে পাঠিয়ে কোটেশন নেওয়া যায়, আর তৈরি জিনিস কুরিয়ারে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় পাঠানো হয়।

আপনার গল্পের আলো বানাতে চান? একটা স্কেচ, মাপসহ ছবি বা 3D মডেল ফাইল পাঠান, আমরা কোটেশন তৈরি করে দেব। ফাইল থাকলে অনলাইনে 3D প্রিন্টিং কোটেশন নিন, অথবা সরাসরি WhatsApp করুন 01884-502768 নম্বরে। আমাদের ওয়ার্কশপ আফতাবনগর, ঢাকায়।

Related articles

3D প্রিন্টেড মডেল কিট বাংলাদেশে: নিজে জোড়া লাগানোর গাড়ি, রোবট ও স্থাপনা
Projects

3D প্রিন্টেড মডেল কিট বাংলাদেশে: নিজে জোড়া লাগানোর গাড়ি, রোবট ও স্থাপনা

রেডিমেড মডেল শুধু দেখার, কিট জোড়া লাগানোর মজাই আলাদা। 3D printed model kit কীভাবে ডিজাইন ও প্রিন্ট হয়, উইলিস জিপ কিটের উদাহরণসহ জানুন। আপনার আইডিয়া পাঠান।

PrototypeBD·Oct 28, 2026·5 min read
মডেলের মিনিয়েচার ফার্নিচার 3D প্রিন্ট: ঢাকায় ইন্টেরিয়র মডেলের আসবাব
Projects

মডেলের মিনিয়েচার ফার্নিচার 3D প্রিন্ট: ঢাকায় ইন্টেরিয়র মডেলের আসবাব

মডেলের ঘর কি খালি বাক্স থাকবে? miniature furniture architectural model-এ বিছানা, চেয়ার, ডাইনিং সেট কীভাবে স্কেল মেনে 3D প্রিন্ট হয় জানুন। তালিকা পাঠান।

PrototypeBD·Oct 28, 2026·5 min read
তেল-গ্যাস যন্ত্রপাতির ট্রেনিং মডেল 3D প্রিন্ট: বাংলাদেশে CAD থেকে ডিসপ্লে
Projects

তেল-গ্যাস যন্ত্রপাতির ট্রেনিং মডেল 3D প্রিন্ট: বাংলাদেশে CAD থেকে ডিসপ্লে

সাইটে না নিয়েই কর্মী বা ক্লায়েন্টকে যন্ত্র চেনাতে চান? oil and gas equipment model কীভাবে CAD ও 3D প্রিন্টে হয় জানুন। ড্রয়িং বা ছবি পাঠিয়ে কোটেশন নিন।

PrototypeBD·Oct 28, 2026·5 min read

Comments

Loading comments…